ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু ১,৪০০ পেরোল, ধ্বংসস্তূপে এখনও হাজারো মানুষ! উদ্ধারকাজে আন্তর্জাতিক সহায়তা

দফায় দফায় পরাঘাতে আতঙ্ক, গৃহহীন হাজার হাজার পরিবার; বিশ্বজুড়ে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান জোরদার নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৪ ঘণ্টা খাস খবর ডিজিটাল ডেস্কপ্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত। গত ২৪ জুন দেশটির উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল ও রাজধানী কারাকাসের আশপাশে পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১,৪০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা (La Guaira) উপকূলীয় অঞ্চল। অসংখ্য বহুতল ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকা ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, দমকল, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিদেশি উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরাঘাতে আতঙ্ক, খোলা আকাশের নিচে রাত মূল ভূমিকম্পের পর শতাধিক পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার জন্য প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠ, পার্ক ও অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় জোর উদ্ধার অভিযান উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, এল সালভাদরসহ একাধিক দেশের ১,৬০০-রও বেশি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মী। বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসক, অনুসন্ধানী কুকুর, ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী এবং জরুরি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলিও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানবিক সংকটের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বহু এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন।

Read More

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে কী পেল ইরান, কেন রাজি হলো দেশটি ?

২৪ ঘন্টা খাসখবর- আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক চাপের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিতে (MoU) পৌঁছেছে। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত একটি অস্থায়ী সমঝোতা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তিতে কী কী রয়েছে? প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ। ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আর সম্প্রসারণ করবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান কেন চুক্তিতে রাজি হলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। তেল রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তেহরানকে আলোচনায় আগ্রহী করেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারত। ফলে সরকার আপাতত সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চুক্তি কি স্থায়ী সমাধান? বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত সমাধান নয়। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা, পারমাণবিক কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে এই চুক্তি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হবে, নাকি কেবল সাময়িক বিরতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। সংক্ষেপে: ইরান অর্থনৈতিক স্বস্তি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং যুদ্ধের ক্ষতি এড়ানোর জন্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে

Read More

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

২৪ ঘন্টা খাসখবর : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা দিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে হবে। এজন্য সরকারি নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে বয়স নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। এমসিএমসি জানিয়েছে, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত রাখা বা প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার সীমিত করা নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ববোধ বাড়ানোই এর লক্ষ্য। FOR ADVERTISEMENT CONTACT – 9830580279

Read More

বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোতে শিক্ষকদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

২৪ ঘন্টা খাসখবর : ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। তবে ফুটবল উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যেই আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি। শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বিশ্বকাপ আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার (৩ জুন) বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। এ সময় তারা ল্যাম্পপোস্ট ব্যবহার করে সরকারি ভবনের দরজা ও স্থাপনায় হামলা করেন। এর একদিন আগে, কট্টরপন্থী শিক্ষক সংগঠন সিএনটিই-এর সদস্যরা বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্থাপন করা কয়েকজন ফুটবলারের বিশাল প্লাস্টিকের মূর্তি ভেঙে ফেলেন। পরে মূর্তিগুলোর জার্সি খুলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন ঘটনার কারণে আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম বলেছেন, সরকার কোনো ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নেবে না। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে। শিক্ষকদের দাবি, তাদের বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন সংস্কার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করতে হবে। সরকার ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, বেতন ১০০ শতাংশ বাড়াতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বড় ধরনের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিএনটিই। …………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….. FOR ADVERTISEMENT CONTACT – 9830580279

Read More

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি: অগ্রগতির যুগ নাকি বাড়ছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা?

বর্তমান বিশ্ব এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাড়ছে যুদ্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তা। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি বিশ্বকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ফলে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এখন উন্নয়ন এবং উদ্বেগ—এই দুই বাস্তবতার এক জটিল মিশ্রণ। বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংঘাত। বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন করে “শীতল যুদ্ধের” আশঙ্কা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন শুধুমাত্র সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতেও এই প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশ্ব এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অনেক দেশ মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং ঋণের চাপে ভুগছে। করোনা মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতা এখনো ফিরে আসেনি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে, কারণ তাদের অর্থনীতি বৈশ্বিক পরিবর্তনের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বকে নতুন সম্ভাবনার সামনে দাঁড় করিয়েছে। Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং সামরিক খাত পর্যন্ত প্রভাব ফেলছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই-ভিত্তিক নতুন সিস্টেম তৈরি করছে, যা কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বহু মানুষের চাকরির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনও বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট। অতিরিক্ত গরম, দাবানল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বহু দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আগামী কয়েক দশকে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র এবং উপকূলবর্তী দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। সামাজিক দিক থেকেও বিশ্বে পরিবর্তন দ্রুত ঘটছে। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের যোগাযোগ সহজ করলেও ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক প্রচারণা এবং মানসিক চাপের মতো সমস্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডিজিটাল নির্ভরতা নতুন সামাজিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যের সহজলভ্যতা যেমন মানুষকে সচেতন করছে, তেমনি বিভ্রান্তিও বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতেও নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। করোনা মহামারির অভিজ্ঞতার পর বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। বহু দেশ এখন স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে নতুন মহামারি বা স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সব মিলিয়ে বর্তমান বিশ্ব এক পরিবর্তনের যুগে দাঁড়িয়ে। একদিকে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন মানবসভ্যতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং পরিবেশগত সংকট ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন হলো—বিশ্ব কি সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতার পথে এগোতে পারবে, নাকি প্রতিযোগিতা ও সংঘাত আরও বড় সংকট তৈরি করবে? বর্তমান বাস্তবতা বলছে, ভবিষ্যতের পৃথিবী নির্ভর করবে কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উপর নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলোর উপরও।

Read More

রাশিয়া থেকে আরও তেল এল দেশে! মস্কোর সেই বেজিংগামী জ্বালানি বোঝাই জাহাজ গন্তব্য বদলে পৌঁছে গেল মেঙ্গালুরুতে

চিনের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে অভিমুখ বদলানো সেই রুশ তেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছোল ভারতে। নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরে নোঙর করেছে রাশিয়ার ‘অ্যাকোয়া টাইটান’। মাঝারি মাপের এই জাহাজটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ভারতে। দাবি করা হচ্ছে, চিন যাওয়ার পথে অন্তত সাতটি রুশ জাহাজ অভিমুখ বদলে ভারতের দিকে ঘুরেছে। তার মধ্যে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’-ই প্রথম ভারতীয় বন্দরে নোঙর করল। তবে বাকি ছ’টি জাহাজের সবগুলিই ভারতে আসছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’-এ করে কতটা অপরিশোধিত তেল ভারতে আনা হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। গত জানুয়ারির শেষ দিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল ‘অ্যাকোয়া টাইটান’। প্রাথমিক ভাবে সেটির গন্তব্য ছিল চিনের রিজ়াও বন্দর। সেই পথেই এগোচ্ছিল। তবে মার্চের মাঝামাঝি হঠাৎই অভিমুখ বদলে ভারতের দিকে এগোতে শুরু করে জাহাজটি। গত ১৮ মার্চ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিবেদনে এই বিষয়টি প্রকাশিত হয়। ঘটনাচক্রে, এর কিছু দিন আগেই আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। যদিও ভারত কখনও রাশিয়ার থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। এরই মধ্যে সম্প্রতি ‘সিএনএন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমেরিকার শক্তি দফতরের সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেন, ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুরোধ’ করেছিল আমেরিকাই। তাঁর দাবি, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল চিনে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই তেল ভারতের শোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকে ‘পরামর্শ’ দেন তিনি। পর পর এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই রুশ তেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছোল ভারতের মেঙ্গালুরুর বন্দরে।

Read More

খারিজ একাধিক দেশের শান্তিপ্রস্তাব! ইরানকে ধ্বংস না করে ছাড়বেন না ট্রাম্প, সংকট বাড়বে বিশ্বজুড়ে

ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে কেবল প্রায় হাজার তিনেক মানুষের মৃত্যুই হয়নি, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় জ্বালানি সংকটে গোটা বিশ্ব। প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। এর পরেও যুদ্ধ থামাতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের কাছে দরবার করেছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ। কিন্তু কোনও আলোচনাতেই আগ্রহী নন তিনি। উলটে ইরানের সামরিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে নিজের দেশের সেনা বাহিনীকে একের পর এক নির্দেশ দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। অপরপক্ষে ইরান আগেই জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে তারাও প্রতিশোধ নেবে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না সমর বিশেষজ্ঞরা। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ওমান এবং মিশর। এমনকী এই বিষয়ে একাধিকবার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। যদিও তাদের প্রস্তাব শুনতেই চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, আপাতত মধ্যস্থতায় আগ্রহী নন ট্রাম্প। বরং পেন্টাগনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানকে নাস্তানাবুদ করতে নতুন নতুন কৌশল বের করতে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Read More