ইউসিসি বিল আপাতত স্থগিত, উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের অপেক্ষায় সরকার

২৪ ঘন্টা খাসখবর ডিজিটাল ,কলকাতা- পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা UCC) নিয়ে আপাতত কোনও বিল বিধানসভায় পেশ করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। পরিবর্তে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনও পদক্ষেপের পরিবর্তে আইনি, সাংবিধানিক এবং সামাজিক দিকগুলি খতিয়ে দেখতে চায় সরকার। সেই কারণেই আইন বিশেষজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। কমিটির দায়িত্ব হবে বিদ্যমান ব্যক্তিগত আইন, সাংবিধানিক বিধান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতামত এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেওয়া। রিপোর্টে প্রয়োজনীয় সুপারিশও থাকবে, যার ভিত্তিতেই সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসনের একাংশের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এমন একটি বিষয়, যার প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে পড়তে পারে। তাই সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষেই সরকার। উল্লেখ্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন রাজ্যও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পথেই হাঁটতে চাইছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের অভিমত। ২৪ ঘন্টা খাসখবর এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে তার নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত আপডেট পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে। photo : metrovaartha.com

Read More

পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ সরকারি চাকরির ঘোষণা, কর্মসংস্থানে বড় পদক্ষেপের দাবি রাজ্য সরকারের

শিক্ষা, পুলিশ ও বিভিন্ন দফতরে নিয়োগের পরিকল্পনা; ৩৩% পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার ঘোষণা নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৪ ঘণ্টা খাস খবর ডিজিটাল ডেস্কপ্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ রাজ্যের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ লক্ষ শূন্য সরকারি পদে নিয়োগের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই ঘোষণা করা হয়। সরকারের দাবি, শিক্ষা, পুলিশ, স্বাস্থ্য, প্রশাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরে ধাপে ধাপে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। বাজেট অনুযায়ী, ঘোষিত ১ লক্ষ পদের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা-সম্পর্কিত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার পদে পুলিশ বিভাগে নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে। বাকি পদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পূরণ করা হবে। সরকার আরও জানিয়েছে, নতুন নিয়োগের ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণ এবং বয়সে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে বাজেট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের মতে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে সরকারের দাবি। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, সমস্ত নিয়োগ আইনসম্মত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষিত নিয়োগ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি, স্বচ্ছতা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদ পূরণের ওপর। CONTACT FOR ADVERTISEMENT – 9830580279

Read More

উন্নয়নের পথে নতুন রূপরেখা: প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও শিল্পে জোর পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের

ডিএ বৃদ্ধি, ১ লক্ষ সরকারি চাকরি, শিল্পায়ন ও মহিলাদের জন্য নতুন প্রকল্প—উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি রাজ্য সরকারের নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৪ ঘণ্টা খাস খবর ডিজিটাল ডেস্কপ্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সরকারের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২০ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৩৮ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে ১ লক্ষ সরকারি পদে নিয়োগ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারের বক্তব্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মিশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক পরিষেবা আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো “উন্নত বাংলা” গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়া। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বাজেটের বিভিন্ন ঘোষণা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সময়ই এই প্রতিশ্রুতিগুলির কার্যকারিতা প্রমাণ করবে বলে মন্তব্য করেছে। CONTACT FOR ADVERTISEMENT – 9830580279

Read More

“বাংলাকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

২৪ ঘন্টা খাসখবর- নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার সময় পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলার দেশপ্রেমিক মানুষ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল। সেই সময় বাংলার বহু দেশপ্রেমিক নেতা, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলার জনগণের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই এই রাজ্য ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয়, স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রেও দেশের পথপ্রদর্শক। তিনি বাংলার বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায় এবং পূর্ব বাংলা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশে পরিণত হয়। ছবি : https://newsonair.gov.in/west-bengal-prime-minister-modi-takes-part-in-paschimbanga-divas-celebrations-at-tarakeswar/

Read More

তৃণমূলে ভাঙন, তবু নেত্রী মমতাই

২৪ ঘন্টা খাসখবর : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সংকট ও বিদ্রোহের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলকে নতুনভাবে সাজাতে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একাংশের বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় পৃথক অবস্থান নেওয়ার পথে এগোলেও দলনেত্রী হিসাবে এখনো মমতা ব্যানার্জির ওপরই আস্থা রাখছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলনেত্রী হিসাবে মমতার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে ওই চিঠিতে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। উপদলনেতা হিসাবে কয়েকজন বিধায়কের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে তৃণমূলের ভেতরে যে সংঘাত এখন মূলত নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিকে ঘিরে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চ্যাটার্জিকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নামে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ইতোমধ্যে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসে। …………………………………………………………………………… FOR ADVERTISEMENT CONTACT – 9830580279

Read More

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি: উন্নয়নের দাবি, নাকি বাড়ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ?

বর্তমান সময়ে West Bengal এক জটিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকার উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং সামাজিক প্রকল্পের সাফল্যের দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে বেকারত্ব, রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি এখন শুধুমাত্র রাজনীতির বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত। শাসক দল Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রেখেছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলো গ্রামীণ এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের অভিযোগ, বাস্তব উন্নয়নের তুলনায় প্রচার অনেক বেশি, এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এখন বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। রাজ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন এবং খুচরো বাজার এখনও সক্রিয় থাকলেও বড় শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বহু অর্থনীতিবিদের মতে, শিল্পায়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ায় তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী এখনও অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে চাকরির বাজারে অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রাজ্যের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বহু চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতা এবং দুর্নীতির কারণে আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, কলকাতা সহ শহরাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চললেও গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় এখনও স্বাস্থ্য, রাস্তা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর এবং গ্রামের উন্নয়নের মধ্যে ব্যবধান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্প পৌঁছালেও বাস্তব সুবিধা সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, স্থানীয় স্তরে সহিংসতা এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবুও সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংস্কৃতি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এখনও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাহিত্য, থিয়েটার, সিনেমা এবং সংগীতের ঐতিহ্য রাজ্যের পরিচয় বহন করে চলেছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ শুধুমাত্র ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। পরিবেশগত দিক থেকেও রাজ্য উদ্বেগের মুখে রয়েছে। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এবং নদীভাঙনের মতো সমস্যা উপকূলবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে সামাজিক প্রকল্প এবং সাংস্কৃতিক শক্তি রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বেকারত্ব, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক বিতর্ক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার বিষয়, উন্নয়নের দাবি বাস্তবে কতটা সাধারণ মানুষের জীবন বদলাতে পারে, এবং রাজ্য কি আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোতে সক্ষম হবে কিনা।

Read More

ভাঙড়ে শওকতের বিরুদ্ধে প্রার্থী আরাবুল? ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে জল্পনা

প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড় আসন্ন বিধানসভা ভোটে (Assembly Elections) ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকত মোল্লার (Shaukat Molla) বিরুদ্ধে কি প্রার্থী হতে চলেছেন ভাঙড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম? এমনই একটি খবর ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োতে (এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিতে পারেন আরাবুল। আইএসএফের (ISF) টিকিটেই তিনি ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকতের বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আরাবুল কিংবা শওকত, কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। এক সময়ের ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম বর্তমানে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কৃত। এই মুহূর্তে তিনি কার্যত গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আরাবুলের ছেলে হাকিমুল ইসলাম জেলা পরিষদের সদস্য হলেও তৃণমূল নেতা হিসাবে কোনও মিটিং মিছিলে ডাক পান না। ভাঙড়ের আর এক তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদও দলে কোণঠাসা। আরাবুলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে আইএসএফের হয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে। এ ব্যাপারে রাজি করাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরাও চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ভাঙড়ে গোপন বৈঠকও হয়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠরাই সেই খবর ফাঁস করে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠ ভাঙড়ের এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার কথায়, ‘রাজনীতির সাপ লুডোর খেলায় বিভিন্ন সময় দলে কোণঠাসা হলেও দাদাকে কখনও দল থেকে পুরোপুরি নির্বাসন দেওয়া হয়নি। এ বার সেটাই করেছে দল। এর পিছনে শওকতের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে ক্যানিং পূর্বে দাদাকে প্রার্থী করতে চাইছি আমরা। দাদা একবার রাজি হলেই খেলা জমে যাবে।’ আরাবুল ও হাকিমুল ভাঙড় বিধানসভার বেওতা ১ ও ২ এবং বামনঘাটা অঞ্চল থেকে গত পঞ্চায়েত ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরাবুল শিবিরের দাবি, সেই এলাকার একটা বিপুল সংখ্যক কর্মী–সমর্থক আরাবুলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। আরাবুল যে পথে এগোবেন, তাঁরাও সেদিকেই যাবেন।’ এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আরাবুলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে চিঠি দিয়েছি। ভোট সৈনিক হিসাবে লড়াই করার জন্য একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু দল সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। কী করব, তা এখনও ঠিক করিনি।’ এ ব্যাপারে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা আরাবুলের নাম না করে একটি সভায় বলেন, ‘গদ্দারগুলোকে দল থেকে তাড়িয়েছি, এখন বাজার গরম করছে। যদি বাপের বেটা হয়ে থাকেন, যদি বুকের পাটা থাকে, তা হলে আইএসএফের টিকিট নিয়ে ভাঙড় থেকে দাঁড়াক।’ ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা তথা জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, ‘আরাবুলদা যদি আইএসএফ–এ আসত চান, তবে তাঁকে স্বাগত জানাব। কিন্তু তিনি যোগদান করতে পারবেন কি না, সেটা দল ঠিক করবে।’ আইএসএফের চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘উনি আইএসএফে যোগদান করতে চাইলে ওঁকে দলে নেওয়া হবে কি না, সেটা ঠিক করবেন আমার বড় ভাই। কারণ, উনি দলের প্রতিষ্ঠাতা।’ অর্থাৎ, নওশাদ বল ঠেলে দিয়েছেন তাঁর দাদার কোর্টে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন আরাবুল।

Read More