তৃণমূলে ভাঙন, তবু নেত্রী মমতাই

২৪ ঘন্টা খাসখবর : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সংকট ও বিদ্রোহের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলকে নতুনভাবে সাজাতে সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একাংশের বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় পৃথক অবস্থান নেওয়ার পথে এগোলেও দলনেত্রী হিসাবে এখনো মমতা ব্যানার্জির ওপরই আস্থা রাখছেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলনেত্রী হিসাবে মমতার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে ওই চিঠিতে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। উপদলনেতা হিসাবে কয়েকজন বিধায়কের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে তৃণমূলের ভেতরে যে সংঘাত এখন মূলত নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিকে ঘিরে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঘটনার সূত্রপাত হয় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চ্যাটার্জিকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই দলের অন্দরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নামে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ইতোমধ্যে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসে। …………………………………………………………………………… FOR ADVERTISEMENT CONTACT – 9830580279

Read More

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি: উন্নয়নের দাবি, নাকি বাড়ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ?

বর্তমান সময়ে West Bengal এক জটিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকার উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং সামাজিক প্রকল্পের সাফল্যের দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে বেকারত্ব, রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি এখন শুধুমাত্র রাজনীতির বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত। শাসক দল Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রেখেছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলো গ্রামীণ এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের অভিযোগ, বাস্তব উন্নয়নের তুলনায় প্রচার অনেক বেশি, এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এখন বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। রাজ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন এবং খুচরো বাজার এখনও সক্রিয় থাকলেও বড় শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বহু অর্থনীতিবিদের মতে, শিল্পায়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ায় তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী এখনও অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে চাকরির বাজারে অসন্তোষ বাড়ছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রাজ্যের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বহু চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতা এবং দুর্নীতির কারণে আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, কলকাতা সহ শহরাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চললেও গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় এখনও স্বাস্থ্য, রাস্তা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর এবং গ্রামের উন্নয়নের মধ্যে ব্যবধান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্প পৌঁছালেও বাস্তব সুবিধা সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, স্থানীয় স্তরে সহিংসতা এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবুও সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংস্কৃতি এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এখনও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাহিত্য, থিয়েটার, সিনেমা এবং সংগীতের ঐতিহ্য রাজ্যের পরিচয় বহন করে চলেছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ শুধুমাত্র ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। পরিবেশগত দিক থেকেও রাজ্য উদ্বেগের মুখে রয়েছে। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এবং নদীভাঙনের মতো সমস্যা উপকূলবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে সামাজিক প্রকল্প এবং সাংস্কৃতিক শক্তি রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বেকারত্ব, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক বিতর্ক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার বিষয়, উন্নয়নের দাবি বাস্তবে কতটা সাধারণ মানুষের জীবন বদলাতে পারে, এবং রাজ্য কি আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোতে সক্ষম হবে কিনা।

Read More

ভাঙড়ে শওকতের বিরুদ্ধে প্রার্থী আরাবুল? ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে জল্পনা

প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড় আসন্ন বিধানসভা ভোটে (Assembly Elections) ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকত মোল্লার (Shaukat Molla) বিরুদ্ধে কি প্রার্থী হতে চলেছেন ভাঙড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম? এমনই একটি খবর ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োতে (এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিতে পারেন আরাবুল। আইএসএফের (ISF) টিকিটেই তিনি ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকতের বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আরাবুল কিংবা শওকত, কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। এক সময়ের ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম বর্তমানে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কৃত। এই মুহূর্তে তিনি কার্যত গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আরাবুলের ছেলে হাকিমুল ইসলাম জেলা পরিষদের সদস্য হলেও তৃণমূল নেতা হিসাবে কোনও মিটিং মিছিলে ডাক পান না। ভাঙড়ের আর এক তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদও দলে কোণঠাসা। আরাবুলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে আইএসএফের হয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে। এ ব্যাপারে রাজি করাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরাও চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ভাঙড়ে গোপন বৈঠকও হয়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠরাই সেই খবর ফাঁস করে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠ ভাঙড়ের এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার কথায়, ‘রাজনীতির সাপ লুডোর খেলায় বিভিন্ন সময় দলে কোণঠাসা হলেও দাদাকে কখনও দল থেকে পুরোপুরি নির্বাসন দেওয়া হয়নি। এ বার সেটাই করেছে দল। এর পিছনে শওকতের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে ক্যানিং পূর্বে দাদাকে প্রার্থী করতে চাইছি আমরা। দাদা একবার রাজি হলেই খেলা জমে যাবে।’ আরাবুল ও হাকিমুল ভাঙড় বিধানসভার বেওতা ১ ও ২ এবং বামনঘাটা অঞ্চল থেকে গত পঞ্চায়েত ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরাবুল শিবিরের দাবি, সেই এলাকার একটা বিপুল সংখ্যক কর্মী–সমর্থক আরাবুলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। আরাবুল যে পথে এগোবেন, তাঁরাও সেদিকেই যাবেন।’ এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আরাবুলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে চিঠি দিয়েছি। ভোট সৈনিক হিসাবে লড়াই করার জন্য একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু দল সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। কী করব, তা এখনও ঠিক করিনি।’ এ ব্যাপারে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা আরাবুলের নাম না করে একটি সভায় বলেন, ‘গদ্দারগুলোকে দল থেকে তাড়িয়েছি, এখন বাজার গরম করছে। যদি বাপের বেটা হয়ে থাকেন, যদি বুকের পাটা থাকে, তা হলে আইএসএফের টিকিট নিয়ে ভাঙড় থেকে দাঁড়াক।’ ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা তথা জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, ‘আরাবুলদা যদি আইএসএফ–এ আসত চান, তবে তাঁকে স্বাগত জানাব। কিন্তু তিনি যোগদান করতে পারবেন কি না, সেটা দল ঠিক করবে।’ আইএসএফের চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘উনি আইএসএফে যোগদান করতে চাইলে ওঁকে দলে নেওয়া হবে কি না, সেটা ঠিক করবেন আমার বড় ভাই। কারণ, উনি দলের প্রতিষ্ঠাতা।’ অর্থাৎ, নওশাদ বল ঠেলে দিয়েছেন তাঁর দাদার কোর্টে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন আরাবুল।

Read More