ভারত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র, যেগুলি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কেরালার আলাপ্পুঝা (Alappuzha বা Alleppey) তেমনই একটি স্বপ্নের গন্তব্য। একে বলা হয় “Venice of the East” বা “প্রাচ্যের ভেনিস”। সবুজ নারকেল গাছ, বিস্তীর্ণ ব্যাকওয়াটার, শান্ত লেক, নদী, খাল, হাউসবোট এবং মনোরম প্রকৃতি আলাপ্পুঝাকে ভারতের অন্যতম সুন্দর পর্যটনস্থানে পরিণত করেছে। আলাপ্পুঝার পরিচয় আলাপ্পুঝা কেরালার একটি উপকূলীয় জেলা, যা আরব সাগরের তীরে অবস্থিত। শহরটি বিশেষভাবে বিখ্যাত তার ব্যাকওয়াটার, হাউসবোট ভ্রমণ, কেরালার ঐতিহ্যবাহী খাবার, নারকেল বাগান, সামুদ্রিক সৈকত এবং নৌকা প্রতিযোগিতার জন্য। ১৮৬২ সালে রাজা রামা বর্মা আলাপ্পুঝাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলেন। বর্তমানে এটি কেরালার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। কেন আলাপ্পুঝা বিখ্যাত? আলাপ্পুঝার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল তার ব্যাকওয়াটার। ছোট-বড় নদী, খাল এবং লেক মিলিয়ে এখানে প্রায় ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি জলপথ রয়েছে। এখানকার বিখ্যাত হাউসবোট-এ রাত কাটানো জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। দর্শনীয় স্থানসমূহ ১. আলাপ্পুঝা ব্যাকওয়াটার এটি আলাপ্পুঝার প্রধান আকর্ষণ। চারদিকে সবুজ প্রকৃতি, নারকেল গাছ এবং শান্ত জলরাশি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ২. হাউসবোট ক্রুজ কেরালার ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ হাউসবোটে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে শোবার ঘর, ডাইনিং রুম, বাথরুম, রান্নাঘর এবং বারান্দা থাকে। একদিন বা একরাতের ভ্রমণ অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রায় খরচ (২০২৬): ৩. আলাপ্পুঝা বিচ ১৮৬২ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক জেটি, সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য এবং সমুদ্রের ঢেউ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ৪. ভেম্বানাদ লেক কেরালার বৃহত্তম হ্রদ। এখানেই বিখ্যাত নৌকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ৫. কুমারাকোম আলাপ্পুঝার কাছাকাছি একটি বিখ্যাত বার্ড স্যাংচুয়ারি। পাখিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ স্থান। ৬. মারারি বিচ শান্ত ও পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত। যারা নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন তাদের জন্য উপযুক্ত। নেহরু ট্রফি বোট রেস প্রতি বছর আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত এই নৌকা প্রতিযোগিতা বিশ্বখ্যাত। শত শত দাঁড় টানা সাপের মতো লম্বা নৌকা একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন? ✈ বিমানপথ কলকাতা থেকে কোচিনে সরাসরি বা এক স্টপেজের ফ্লাইট পাওয়া যায়। সময়: প্রায় ৩–৫ ঘণ্টা (ফ্লাইটের ধরন অনুযায়ী) কোচিন বিমানবন্দর থেকে আলাপ্পুঝা প্রায় ৮৫ কিমি দূরে। যাতায়াত: 🚆 ট্রেনপথ কলকাতার হাওড়া জংশন থেকে কেরালাগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনে আলাপ্পুঝা (ALLP) অথবা এরনাকুলাম জংশন (ERS) পর্যন্ত যাওয়া যায়। উদাহরণ: সময়: প্রায় ৩৮–৪২ ঘণ্টা ট্রেন ভাড়া (প্রায়): কোথায় থাকবেন? বাজেট হোটেল (₹১,২০০–₹২,৫০০) মধ্যম মানের হোটেল (₹৩,০০০–₹৬,০০০) বিলাসবহুল রিসোর্ট (₹৮,০০০–₹২০,০০০) কী খাবেন? কেরালার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। জনপ্রিয় খাবার: কেনাকাটা আলাপ্পুঝা বিখ্যাত— ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ আলাপ্পুঝা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বর্ষাকালেও প্রকৃতির সৌন্দর্য অপূর্ব হলেও ভারী বৃষ্টির জন্য কিছু অসুবিধা হতে পারে। পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাপ্পুঝা এমন একটি স্থান, যেখানে প্রকৃতি, শান্তি এবং কেরালার ঐতিহ্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। ব্যাকওয়াটারের বুকে হাউসবোটে ভ্রমণ, সবুজ প্রকৃতির মাঝে সূর্যাস্ত দেখা, সুস্বাদু কেরালার খাবার উপভোগ করা এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে আলাপ্পুঝা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসুর জন্য এক অবিস্মরণীয় গন্তব্য। পরিবার, বন্ধু কিংবা নবদম্পতি—সবার জন্যই এটি ভারতের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র। জীবনে অন্তত একবার আলাপ্পুঝা ভ্রমণ করলে সেই স্মৃতি আজীবন মনে থেকে যাবে। PHOTO : https://keralatourism.travel/ FOR ADVERTISEMENT, CONTACT – 9830580279