Gopal Roy

বৃষ্টি

বৃষ্টিশর্মিলা পাল তপ্ত দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়ালো আকাশের এক কোনে একটা জমাট কালো মেঘ মনে হয় যেন হৃদয় উজাড় করা বৃষ্টি নামবেধুয়ে যাবে সব মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, রাতভর বৃষ্টি লিখবে নতুন ভাগ্য লিপি বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া পোষ্য ঝড়-ঝঞ্ছার রাত্রি শেষে পৃথিবীকে ভরিয়ে দেয়তৃতীয়ার হালকা আলো, দাওয়ায়, বাতিটা প্রায় নিভন্ত রাত পাহারায় ভেজা স্বপ্ন ভাঙ্গা মেঘের আড়ালে ডুবন্ত চাঁদ উঁকি দেয়।।শর্মিলা পাল হাবরা উত্তর ২৪ পরগনা…………………..লেখা পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করুন : 9830580279/9477507079

Read More

“বাংলাকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

২৪ ঘন্টা খাসখবর- নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার সময় পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলার দেশপ্রেমিক মানুষ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল। সেই সময় বাংলার বহু দেশপ্রেমিক নেতা, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলার জনগণের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই এই রাজ্য ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয়, স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রেও দেশের পথপ্রদর্শক। তিনি বাংলার বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায় এবং পূর্ব বাংলা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশে পরিণত হয়। ছবি : https://newsonair.gov.in/west-bengal-prime-minister-modi-takes-part-in-paschimbanga-divas-celebrations-at-tarakeswar/

Read More

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে কী পেল ইরান, কেন রাজি হলো দেশটি ?

২৪ ঘন্টা খাসখবর- আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক চাপের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিতে (MoU) পৌঁছেছে। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত একটি অস্থায়ী সমঝোতা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তিতে কী কী রয়েছে? প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ। ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আর সম্প্রসারণ করবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান কেন চুক্তিতে রাজি হলো? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। তেল রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তেহরানকে আলোচনায় আগ্রহী করেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারত। ফলে সরকার আপাতত সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চুক্তি কি স্থায়ী সমাধান? বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত সমাধান নয়। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা, পারমাণবিক কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে এই চুক্তি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হবে, নাকি কেবল সাময়িক বিরতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। সংক্ষেপে: ইরান অর্থনৈতিক স্বস্তি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং যুদ্ধের ক্ষতি এড়ানোর জন্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে

Read More

র‌্যাঞ্চো-ফারহান-রাজুর জীবনে আসছে নতুন মোড়? ‘থ্রি ইডিয়টস’ নিয়ে মুখ খুললেন হিরানি

২৪ ঘন্টা খাসখবর –বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’ মুক্তির দেড় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের মনে এখনও সমানভাবে জায়গা করে রয়েছে। র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর বন্ধুত্ব, স্বপ্ন আর সংগ্রামের গল্প আজও অনুপ্রেরণা জোগায় অসংখ্য মানুষকে। এরই মধ্যে ছবির সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে নতুন ইঙ্গিত দিলেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিরানি জানান, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর গল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবে ছবির মূল চরিত্রদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে নানা ধারণা ও আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। হিরানির কথায়, “র‍্যাঞ্চো, ফারহান এবং রাজু—এই তিন চরিত্রের জীবনে আরও অনেক কিছু ঘটতে পারে। দর্শকও জানতে চান এরপর তাঁদের জীবনে কী ঘটেছে। সেই সম্ভাবনা নিয়ে আমরা ভাবছি।” পরিচালকের এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, বহু প্রতীক্ষিত ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এর পথেই এগোচ্ছে নির্মাতা দল। তবে ছবির মূল তিন তারকা—Aamir Khan, R. Madhavan এবং Sharman Joshi—এই প্রকল্পে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি হিরানি। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 3 Idiots শুধু বক্স অফিসেই সাফল্য পায়নি, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের নানা দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছিল। ফলে ছবির সম্ভাব্য সিক্যুয়েল নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, সত্যিই কি র‍্যাঞ্চো-ফারহান-রাজুর জীবনের নতুন অধ্যায় বড়পর্দায় ফিরে আসে, নাকি আপাতত জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর প্রত্যাবর্তনের আশা।

Read More

প্রাক্তনের স্মৃতি কেন তাড়া করে? দ্রুত মানসিক ক্ষত সারানোর উপায়

২৪ ঘন্টা খাসখবর : মানুষের জীবনে প্রেম একটি গভীর ও সুন্দর অনুভূতি। প্রেম শুধু দু’জন মানুষের সম্পর্ক নয়, এটি আবেগ, বিশ্বাস, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সমন্বয়। কিন্তু সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয় না। নানা কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়, প্রিয় মানুষটি একসময় “প্রাক্তন” হয়ে যায়। তখন জীবনে নেমে আসে হতাশা, একাকীত্ব, দুঃখ এবং মানসিক যন্ত্রণা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—প্রাক্তনকে ভুলতে কত দিন লাগে? কীভাবে এই মানসিক ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তোলা যায়? বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কেন এত গভীর? যখন আমরা কাউকে ভালোবাসি, তখন তার সঙ্গে শুধু সময় কাটাই না, বরং তাকে ঘিরে ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখি। সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই স্বপ্নগুলোও ভেঙে যায়। ফলে মানুষ শুধু একজন মানুষকে হারায় না, হারায় তার আশা, প্রত্যাশা এবং আবেগের একটি বড় অংশ। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রেমে বিচ্ছেদ অনেকটা প্রিয়জনের মৃত্যুজনিত শোকের মতো। কারণ দু’ক্ষেত্রেই মানুষ হারানোর বেদনা অনুভব করে। তাই বিচ্ছেদের পর কান্না, রাগ, হতাশা, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা কিংবা জীবনের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রাক্তনকে ভুলতে আসলে কত দিন লাগে? এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। কারণ প্রত্যেক মানুষের মানসিক গঠন আলাদা। কিছু মানুষ কয়েক মাসের মধ্যে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন। আবার কেউ কেউ কয়েক বছর পরেও প্রাক্তনের স্মৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেন না। সাধারণভাবে গবেষণায় দেখা গেছে, একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে স্থিতিশীল হতে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো সময়টাই কষ্টে কাটবে। ধীরে ধীরে ব্যথা কমে আসে, স্মৃতির তীব্রতা হ্রাস পায় এবং মানুষ নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শেখে। কেন কেউ দ্রুত ভুলতে পারে, কেউ পারে না? ১. সম্পর্কের গভীরতা যত গভীর সম্পর্ক, বিচ্ছেদের আঘাত তত বেশি। পাঁচ বছরের সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট সাধারণত পাঁচ মাসের সম্পর্কের তুলনায় বেশি হয়। ২. বিচ্ছেদের কারণ যদি সম্পর্ক বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা বা অপমানের কারণে ভেঙে যায়, তাহলে মানসিক ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ৩. ব্যক্তিত্বের ধরন কেউ আবেগপ্রবণ, কেউ বাস্তববাদী। আবেগপ্রবণ মানুষ সাধারণত সম্পর্কের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে বহন করেন। ৪. সামাজিক সমর্থন পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন থাকলে মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। বিচ্ছেদের পর মানুষের মানসিক অবস্থা বিচ্ছেদের পর সাধারণত মানুষ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে। অস্বীকার (Denial) প্রথমে বিশ্বাসই করতে চায় না যে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। রাগ (Anger) নিজের উপর, প্রাক্তনের উপর বা পরিস্থিতির উপর রাগ জন্মায়। দরকষাকষি (Bargaining) মনে হয়, “আরেকবার কথা বললে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।” বিষণ্ণতা (Depression) বাস্তবতা মেনে নিতে গিয়ে গভীর দুঃখ ও শূন্যতা তৈরি হয়। গ্রহণ (Acceptance) অবশেষে মানুষ পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করে। কীভাবে মনের ক্ষত দ্রুত দূর করা যায়? ১. বাস্তবতাকে মেনে নিন সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে প্রথম কাজ হলো বাস্তবতা মেনে নেওয়া। বারবার ভাবলে যে “সব ঠিক হয়ে যাবে”, কষ্ট আরও দীর্ঘায়িত হয়। ২. যোগাযোগ বন্ধ রাখুন প্রাক্তনের সঙ্গে অযথা যোগাযোগ রাখলে পুরোনো স্মৃতি বারবার ফিরে আসে। তাই কিছু সময়ের জন্য দূরত্ব বজায় রাখা ভালো। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বন্ধ করুন প্রাক্তনের প্রতিটি পোস্ট, ছবি বা স্ট্যাটাস দেখা মানসিক ক্ষতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। ৪. নিজের আবেগ প্রকাশ করুন কান্না পেলে কাঁদুন। বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন। আবেগ চেপে রাখা সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। ৫. নতুন অভ্যাস তৈরি করুন নতুন বই পড়া, গান শেখা, ভ্রমণ, ব্যায়াম বা কোনো সৃজনশীল কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। ৬. শরীরের যত্ন নিন নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ব্যায়াম মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭. নিজেকে দোষারোপ করবেন না সব সম্পর্ক ভাঙার জন্য একজন মানুষ একা দায়ী নয়। তাই নিজের উপর অতিরিক্ত দোষ চাপাবেন না। ৮. পেশাদার সাহায্য নিন যদি দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া উচিত। কী করা উচিত নয়? বিচ্ছেদের পর কিছু কাজ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। এসব কাজ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়া কি জরুরি? অনেকেই মনে করেন, সুস্থ হতে হলে প্রাক্তনকে পুরোপুরি ভুলে যেতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সব স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। উদ্দেশ্য প্রাক্তনকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং এমন অবস্থায় পৌঁছানো যেখানে সেই স্মৃতি আর আপনাকে কষ্ট দেবে না। একসময় সেই মানুষটি জীবনের একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে, কিন্তু বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করবে না। বিচ্ছেদ থেকে কী শেখা যায়? প্রতিটি সম্পর্ক মানুষকে কিছু না কিছু শেখায়। অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আসে সবচেয়ে বড় কষ্ট থেকে। নতুন জীবনের সূচনা প্রেমে ব্যর্থতা জীবনের ব্যর্থতা নয়। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বিচ্ছেদের কষ্ট পেরিয়ে আবার সুখী জীবন গড়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত শুকিয়ে যায়, নতুন মানুষ আসে, নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়। যে মানুষ আজ আপনার জীবনে নেই, সে হয়তো আপনার গল্পের একটি অধ্যায় ছিল, পুরো বই নয়। তাই অতীতকে সম্মান করুন, কিন্তু ভবিষ্যৎকে আটকে রাখবেন না। উপসংহার প্রাক্তনকে ভুলতে কত দিন লাগে, তার নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কারও কয়েক মাস, কারও কয়েক বছর সময় লাগে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং সঠিক মানসিক যত্নের মাধ্যমে এই কষ্ট ধীরে ধীরে কমে যায়। বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া, নিজের যত্ন নেওয়া, নতুন কাজে মন দেওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়াই হলো দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথ। মনে রাখতে হবে, বিচ্ছেদ জীবনের সমাপ্তি নয়। এটি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ, যার পরেই শুরু হতে পারে আরও সুন্দর, আরও পরিণত এবং আরও অর্থবহ একটি নতুন জীবন।

Read More

মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির সান্নিধ্যে : শরীর ও মনের চার বিস্ময়কর উপকারিতা

২৪ ঘন্টা খাসখবর : বর্তমান যুগে মানুষের জীবন ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে উঠছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নানান দায়িত্বের মাঝে মানুষ যেন প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অথচ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালেই শরীর ও মনের ওপর পড়তে পারে আশ্চর্যজনক ইতিবাচক প্রভাব। পার্কে হাঁটা, গাছপালার মাঝে বসে থাকা, নদীর ধারে সময় কাটানো কিংবা খোলা আকাশের নিচে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি—এসব সাধারণ অভ্যাসই আমাদের সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে। প্রকৃতি মানুষের চিরন্তন বন্ধু। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে শক্তি, শান্তি এবং অনুপ্রেরণা পেয়ে এসেছে। আধুনিক গবেষণাও প্রমাণ করেছে যে প্রকৃতির সংস্পর্শ মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সুস্থ রাখে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে থাকলে যে চারটি বড় উপকার পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হলো। ১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে যায় আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ একটি সাধারণ সমস্যা। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা মানুষের মনকে ক্লান্ত করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটালে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়। যখন আমরা সবুজ গাছপালা দেখি, পাখির ডাক শুনি বা খোলা বাতাসে শ্বাস নিই, তখন মস্তিষ্কে প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি হয়। প্রকৃতির শব্দ ও দৃশ্য মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। ফলে উদ্বেগ, টেনশন এবং মানসিক অস্থিরতা কমে যায়। অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞও পরামর্শ দেন যে মানসিক চাপে ভুগলে প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির মধ্যে কাটানো উচিত। এটি ওষুধ ছাড়াই মানসিক স্বস্তি পাওয়ার একটি কার্যকর উপায়। ২. হৃদযন্ত্র ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়। পার্কে বা খোলা জায়গায় হাঁটার ফলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, হৃদযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। খোলা পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার ফলে শরীরে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করে, যা কোষের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া প্রকৃতির মধ্যে হাঁটলে ক্যালরি খরচ হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ শরীরের জন্য জিমের পাশাপাশি প্রকৃতির সান্নিধ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ৩. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় ডিজিটাল যুগে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন তথ্যের চাপে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটালে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়। গবেষকরা একে “Attention Restoration” বা মনোযোগ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বলে থাকেন। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ মস্তিষ্ককে পুনরায় সতেজ করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী কিংবা সৃজনশীল পেশার মানুষদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। পরীক্ষার প্রস্তুতি বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে কিছু সময় প্রকৃতির মধ্যে থাকলে একাগ্রতা বাড়তে পারে এবং স্মৃতিশক্তিও উন্নত হতে পারে। ৪. সুখ ও ইতিবাচক অনুভূতি বৃদ্ধি পায় প্রকৃতি মানুষের মনে আনন্দ এবং ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে। সবুজ পরিবেশ, ফুলের সৌন্দর্য, সূর্যের আলো এবং পাখির কণ্ঠস্বর মানুষের মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে শরীরে সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়। এর ফলে মন ভালো থাকে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। যারা বিষণ্ণতা বা একাকীত্বে ভোগেন, তাঁদের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্য বিশেষভাবে উপকারী। অনেক সময় প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ মানুষের মনে নতুন আশা এবং উদ্যম জাগিয়ে তোলে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সহজ উপায় প্রকৃতির উপকার পেতে পাহাড় বা জঙ্গলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেই যথেষ্ট। এই ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে। উপসংহার প্রকৃতি শুধু সৌন্দর্যের উৎস নয়, এটি সুস্থ জীবনেরও অন্যতম ভিত্তি। মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে, হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং জীবনে ইতিবাচকতা ফিরে আসে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি আমরা প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির জন্য বরাদ্দ করতে পারি, তবে শরীর ও মন দুটোই উপকৃত হবে। তাই সুস্থ ও সুখী জীবনের জন্য আজ থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। হয়তো প্রতিদিনের সেই ২০ মিনিটই আপনার জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

Read More

জাঁসকার, লাদাখ: হিমালয়েরবুকেএকঅপার্থিবস্বর্গরাজ্য

ভারতের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত লাদাখের অন্যতম মনোমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র হলো  জাঁসকার (Zanskar)। বিশাল হিমালয় পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই অঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমী, ট্রেকার এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণকারীদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গ, নীল আকাশ, গভীর গিরিখাত, প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ এবং জাঁসকার নদীর মনোরম সৌন্দর্য এই অঞ্চলকে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত করেছে। জাঁসকারের পরিচয় জাঁসকার লাদাখের কার্গিল জেলার অন্তর্গত একটি দুর্গম উপত্যকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই অঞ্চল বছরের অধিকাংশ সময় বরফে আচ্ছাদিত থাকে। একসময় এটি বাইরের বিশ্বের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। বর্তমানে উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে পর্যটকদের কাছে জাঁসকার ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাঁসকারের প্রধান শহর পদুম (Padum)। এটি সমগ্র উপত্যকার প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখান থেকে বিভিন্ন মঠ, গ্রাম এবং ট্রেকিং রুটে যাওয়া যায়। দর্শনীয় স্থানসমূহ ১. পদুম (Padum)জাঁসকারের প্রধান শহর। এখান থেকে আশেপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করা যায়। ২. কারশা মঠ (Karsha Monastery)জাঁসকারের বৃহত্তম বৌদ্ধ মঠ। পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই মঠ থেকে উপত্যকার অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। ৩. স্তংদে মঠ (Stongde Monastery)লাদাখের অন্যতম প্রাচীন মঠ। এখানে বহু মূল্যবান বৌদ্ধ শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে। ৪. জাঁসকার নদীগ্রীষ্মকালে রাফটিং এবং শীতকালে বিখ্যাত চাদর ট্রেক-এর জন্য এই নদী বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ৫. ফুগতাল মঠ (Phugtal Monastery)গুহার মধ্যে নির্মিত এই মঠটি ভারতের অন্যতম বিস্ময়কর ধর্মীয় স্থাপনা। এটি দেখতে অনেকটা পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা মৌচাকের মতো। কলকাতা থেকে জাঁসকার যাওয়ার বিমানপথ জাঁসকারে সরাসরি বিমানবন্দর নেই। নিকটতম বিমানবন্দর হলো লে কুশোক বাকুলা রিম্পোচে বিমানবন্দর (Leh Airport)। রুট: কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে লে পৌঁছাতে সাধারণত ৫-৭ ঘণ্টা সময় লাগে (ট্রানজিটসহ)। এরপর লে থেকে পদুম পর্যন্ত সড়কপথে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা যাত্রা করতে হয়। কলকাতা থেকে ট্রেনপথ জাঁসকারে সরাসরি কোনো রেলপথ নেই। পর্যটকরা সাধারণত নিম্নলিখিত রুট ব্যবহার করেন— কলকাতা (হাওড়া) → জম্মু তাওয়ি (ট্রেন)সময়: প্রায় ৩৫-৪০ ঘণ্টা এরপর: বর্তমানে অনেক পর্যটক ট্রেনে জম্মু গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে লাদাখ ভ্রমণ করেন। কোথায় থাকবেন জাঁসকারে বিলাসবহুল হোটেল খুব বেশি নেই, তবে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু আরামদায়ক হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোমস্টে রয়েছে। ১. Hotel Ibex, Padum ২. Zanskar Meadows ৩. Omasila Guest House ৪. Homestay Facilities ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস জাঁসকার ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময় রাস্তা খোলা থাকে এবং আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। তবে এই সময় বিখ্যাত চাদর ট্রেক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় খাবার জাঁসকারে ভ্রমণের সময় অবশ্যই স্থানীয় কিছু খাবার চেখে দেখা উচিত— পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১. উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (Altitude Sickness) এড়াতে প্রথম ২৪ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া উচিত।২. সবসময় উষ্ণ পোশাক সঙ্গে রাখুন, গ্রীষ্মকালেও রাতের তাপমাত্রা কম থাকে।৩. পর্যাপ্ত পানীয় জল পান করুন।৪. মোবাইল নেটওয়ার্ক সব জায়গায় কাজ নাও করতে পারে।৫. নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন, কারণ এটিএম সীমিত।৬. পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং প্লাস্টিক ব্যবহার কম করুন।৭. স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্থানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। প্রকৃতির নিসর্গ, নির্জনতা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশের এক অনন্য সমন্বয় হলো জাঁসকার। যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে পাহাড়, নদী এবং শান্ত প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুদিন কাটাতে চান, তাদের জন্য জাঁসকার এক আদর্শ গন্তব্য। কলকাতা থেকে যাত্রা কিছুটা দীর্ঘ হলেও জাঁসকারের অপরূপ সৌন্দর্য সেই কষ্টকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়। হিমালয়ের বুকে লুকিয়ে থাকা এই স্বর্গরাজ্য একবার দেখলে আজীবন মনে গেঁথে থাকবে।

Read More

বিবর্তন

জয়দীপ রায়চৌধুরীঠিকানা:ডিএ-২,সেক্টর-১,সল্টলেক,কলকাতা-৭০০০৬৪.9831870238কত বিবর্তন ঘটে গেলএ বাড়ি,ও বাড়ি ঘুরেরাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে,রহিম মিস্ত্রীরছোট্ট বস্তির ঘরটাতে।সভ্যতার নগ্ন রূপআজ চাপা পড়ে সু সভ্যতার আলোকে।বাবা বলেছিলেন ,একদিন পরিবর্তন আসবে।সমাজের পরিবর্তন মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন আজও কি তার সময় হয়েছে?একটা ঘুম ভাঙানি গান লিখোকবি,পরিবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের গান ।আমি শুনতে পাচ্ছিসেই গান ,আগামীদিনের মুক্তিকামীমানুষের অধিকারের গান ।বঞ্চিত,সন্ত্রস্ত,অসহায়মানুষের চোখের জলের ভাষায়রক্তের অক্ষরে লেখা গান ।কবি তুমি সামিল হওআমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে।আমি শুনতে পাচ্ছিঅদূরে সাইরেন বাজছেআরঅগুণিত মানুষের কান্না।কবি,আমি শুনতে পাচ্ছিএগিয়ে এসো কবিএগিয়ে এসোএকবার…..

Read More

ক্লান্তি তুমি

ক্লান্তি তুমি ড.কৃষ্ণকলি বেরা আঘাতে আঘাতে শতছিন্ন এই মনটা আজ একটু বিশ্রাম চায় কোনো এক নির্জন প্রান্তরে। যেখানে আমার চিরচেনা পৃথিবীটা কখনও অচেনা মানুষের শব্দবাণে কাঁপিয়ে তুলবে না অন্তরের মখমলি ভীত। হিংসার বাতাসে তছনছ করে তুলবেনা আমার সহনশীলতার শেষ গন্ডি। অহংকার আর ক্ষমতার লোভ ঘৃণ্য কীটের মত কিলবিল করবেনা আমার হৃদয়ের শান্তির বাতাবরণ। একটা নিশ্চিত ঘুম চাই মানসিক ক্লান্তির শেষে সাদা পায়রার শান্তির বার্তাবহ নীলাকাশের নীচে সবুজ নরম ঘাসের গালিচায়। ক্লান্তি তুমি এখন যাও, আমাকে ঘুমোতে দাও ঘুমোতে দাও।

Read More

স্বাস্থ্যের জন্য দিনে কখন এবং কতটুকু আমখাওয়া উচিত ?

আমকে বলা হয় ফলের রাজা। গ্রীষ্মকাল এলেই বাজার ভরে ওঠে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, লক্ষণভোগ ও আম্রপালি জাতের সুস্বাদু আমে। মিষ্টি স্বাদ, মনোরম গন্ধ এবং পুষ্টিগুণের জন্য আম ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই অত্যন্ত প্রিয়। তবে অনেকেই মনে করেন, বেশি আম খেলে শরীরের ক্ষতি হয় বা ডায়াবেটিস বাড়ে। বাস্তবে, সঠিক সময়ে এবং পরিমিত পরিমাণে আম খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যের জন্য দিনে কখন এবং কতটুকু আম খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। দিনের কোন সময় আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো, তা নিয়ে পুষ্টিবিদদের বিভিন্ন মত থাকলেও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে আম খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। বিশেষ করে সকালের জলখাবারের কিছু সময় পরে অথবা দুপুরের খাবারের আগে বা পরে আম খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। এই সময় শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে, ফলে আমের প্রাকৃতিক শর্করা সহজে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। খালি পেটে আম খাওয়া অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। আমে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। এছাড়া যাদের গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে আম খাওয়া পেটের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই খালি পেটে আম না খেয়ে হালকা খাবারের পরে খাওয়াই উত্তম। অন্যদিকে, গভীর রাতে বা ঘুমানোর ঠিক আগে আম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ রাতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এই সময় অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় ফল খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। তাই রাতের খাবারের অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে আম খাওয়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। এখন প্রশ্ন হলো, দিনে কতটুকু আম খাওয়া উচিত? সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে এক থেকে দুই কাপ পরিমাণ কাটা আম বা একটি মাঝারি আকারের আম খেতে পারেন। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও শর্করা প্রবেশ করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী অর্ধেক থেকে একটি ছোট আম যথেষ্ট। ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তবে ডায়াবেটিস থাকলেই যে আম খাওয়া যাবে না, তা নয়। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত অল্প পরিমাণ আম খেয়ে তার সঙ্গে প্রোটিন বা আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে আম খেতে পারেন। আমে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে আমের রস, মিল্কশেক বা অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে আম খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। সম্পূর্ণ ফল হিসেবে আম খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী। অনেকেই আম খাওয়ার আগে কিছু সময় জলতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ মিনিট জলতে ভিজিয়ে রাখলে আমের গায়ে থাকা ধুলোবালি ও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দূর হয় এবং হজমেও সুবিধা হয়। যদিও এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মতভেদ রয়েছে, তবুও স্বাস্থ্যবিধির দিক থেকে ফল ধুয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া অবশ্যই জরুরি। আম খাওয়ার সময় আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। আমের সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার বা সফট ড্রিংকস খেলে শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই আমের সঙ্গে দই, বাদাম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বেশি উপকারী। সর্বোপরি বলা যায়, আম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল। তবে যেকোনো ভালো জিনিসের মতোই আমও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। দিনের প্রথম ভাগে বা দুপুরের সময় পরিমাণমতো আম খেলে শরীর তার পুষ্টিগুণ ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। অতিরিক্ত আম খাওয়া যেমন ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি অযথা ভয় পেয়ে এই পুষ্টিকর ফলকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়াও ঠিক নয়। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে আম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে এই ফল আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরকে সতেজ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই বলা যায়, সুস্থ জীবনের জন্য প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে সঠিক সময়ে আম খাওয়াই হলো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অন্যতম চাবিকাঠি।

Read More