২৪ ঘন্টা খাসখবর- নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার সময় পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার চক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলার দেশপ্রেমিক মানুষ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল। সেই সময় বাংলার বহু দেশপ্রেমিক নেতা, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলার জনগণের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই এই রাজ্য ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয়, স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রেও দেশের পথপ্রদর্শক। তিনি বাংলার বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং সমাজ সংস্কারকদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায় এবং পূর্ব বাংলা পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশে পরিণত হয়।
ছবি : https://newsonair.gov.in/west-bengal-prime-minister-modi-takes-part-in-paschimbanga-divas-celebrations-at-tarakeswar/
