যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে কী পেল ইরান, কেন রাজি হলো দেশটি ?

২৪ ঘন্টা খাসখবর- আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক চাপের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিতে (MoU) পৌঁছেছে। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত একটি অস্থায়ী সমঝোতা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করা হচ্ছে।

চুক্তিতে কী কী রয়েছে?

প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ। ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আর সম্প্রসারণ করবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে।

চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান কেন চুক্তিতে রাজি হলো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। তেল রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তেহরানকে আলোচনায় আগ্রহী করেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারত। ফলে সরকার আপাতত সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তি কি স্থায়ী সমাধান?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চূড়ান্ত সমাধান নয়। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা, পারমাণবিক কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। আগামী ৬০ দিনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে এই চুক্তি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হবে, নাকি কেবল সাময়িক বিরতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

সংক্ষেপে: ইরান অর্থনৈতিক স্বস্তি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং যুদ্ধের ক্ষতি এড়ানোর জন্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে

4,219 currently viewing
10,006 total views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *