তরুণদেরবিষণ্নতা (ডিপ্রেশন): কারণ, প্রভাবএবংসুস্থহয়েওঠারপথ

বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্মের জীবনে শিক্ষা, কর্মজীবন, সম্পর্ক, সামাজিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আধুনিক জীবনের দ্রুত গতি, প্রতিযোগিতা এবং মানসিক চাপ অনেক তরুণকে ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন শুধুমাত্র সাময়িক মন খারাপ নয়; এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যা মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, কাজের আগ্রহ এবং দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ছেলেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সামাজিক ধারণা— যেমন “ছেলেরা কাঁদে না”, “দুর্বলতা দেখানো যাবে না”, “সব সমস্যার সমাধান নিজেকেই করতে হবে”— এই ধরনের মানসিক চাপ তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে অনেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে নীরবে কষ্ট সহ্য করেন। তরুণদের মধ্যে বিষণ্নতার কারণ ১. পড়াশোনা এবং কর্মজীবনের চাপ ভালো ফলাফল, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, চাকরির অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ— এগুলি তরুণদের মনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বারবার ব্যর্থতা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। ২. সম্পর্কের সমস্যা বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ, পারিবারিক অশান্তি বা একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ৩. সামাজিক তুলনা সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের সাফল্য, জীবনযাপন বা জনপ্রিয়তা দেখে অনেক তরুণ নিজের জীবনকে কম মূল্যবান ভাবতে শুরু করেন। ৪. আত্মসম্মানবোধ কমে যাওয়া নিজেকে ব্যর্থ, অযোগ্য বা অপ্রয়োজনীয় মনে করা বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অতিরিক্ত কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগ একজন মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিতে পারে। ৬. ঘুমের সমস্যা ও অনিয়মিত জীবনযাপন অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, অনিয়মিত খাবার বা শারীরিক কার্যকলাপের অভাব মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিষণ্নতার সাধারণ লক্ষণ নিচের লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে গুরুত্ব দেওয়া দরকার— সব মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষণ একরকম নাও হতে পারে। বিষণ্নতার প্রভাব চিকিৎসা বা সহায়তা ছাড়া দীর্ঘদিন বিষণ্নতা চলতে থাকলে— তাই মানসিক কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিষণ্নতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার উপায় মানসিক কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার পথ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ সহায়ক উপায় দেওয়া হলো— ১. নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কাউকে নিজের কথা বলতে চেষ্টা করুন। সবকিছু একা বহন করার প্রয়োজন নেই। ২. নিয়মিত ঘুম প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৩. শরীরচর্চা করুন হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মনের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৪. সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে না রেখে পরিচিত মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। ৫. ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে না গিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করুন। ৬. সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনুন অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। ৭. স্বাস্থ্যকর খাবার খান সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত জল এবং নিয়মিত খাবার শরীর ও মন উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮. নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হবেন না জীবনে ব্যর্থতা বা কঠিন সময় আসতেই পারে। নিজেকে সবসময় অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া সহায়ক হতে পারে। ৯. পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখুন বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, ভ্রমণ, বাগান করা— যেটি ভালো লাগে তার জন্য সময় রাখুন। ১০. প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন যদি বিষণ্নতা দীর্ঘদিন থাকে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয় বা কষ্ট খুব তীব্র হয়, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের ভূমিকা অনেক সময় একজন মানুষের পাশে থাকা, মন দিয়ে কথা শোনা এবং বিচার না করে সমর্থন দেওয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কাউকে “এগুলো ভাবো না”, “শক্ত হও”, “সব ঠিক হয়ে যাবে”— শুধু এই ধরনের কথা বলার পরিবর্তে ধৈর্য নিয়ে শোনা এবং সাহায্য করতে আগ্রহী হওয়া উপকারী হতে পারে। আশার কথা বিষণ্নতা অনেক মানুষের জীবনেই আসতে পারে। সাহায্য নেওয়া দুর্বলতা নয়; বরং নিজের সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সময়, সমর্থন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক মানুষ ধীরে ধীরে ভালো বোধ করতে পারেন। উপসংহার তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সমাজ, পরিবার এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা একত্রে কাজ করলে বিষণ্নতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়তে পারে এবং আরও মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। জীবনে কঠিন সময় আসতেই পারে, কিন্তু কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়। নিজের যত্ন নেওয়া, সাহায্য চাওয়া এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা— এগুলিই সুস্থ হয়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি কোনো তরুণ দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক কষ্টে থাকেন বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পরিবারের সদস্য, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Read More

তরুণদেরবিষণ্নতা (ডিপ্রেশন): কারণ, প্রভাবএবংসুস্থহয়েওঠারপথ

নিজস্ব প্রতিনিধি (২৪ ঘন্টা খাসখবর) :  বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্মের জীবনে শিক্ষা, কর্মজীবন, সম্পর্ক, সামাজিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আধুনিক জীবনের দ্রুত গতি, প্রতিযোগিতা এবং মানসিক চাপ অনেক তরুণকে ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন শুধুমাত্র সাময়িক মন খারাপ নয়; এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যা মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, কাজের আগ্রহ এবং দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ছেলেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সামাজিক ধারণা— যেমন “ছেলেরা কাঁদে না”, “দুর্বলতা দেখানো যাবে না”, “সব সমস্যার সমাধান নিজেকেই করতে হবে”— এই ধরনের মানসিক চাপ তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে অনেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে নীরবে কষ্ট সহ্য করেন। তরুণদের মধ্যে বিষণ্নতার কারণ ১. পড়াশোনা এবং কর্মজীবনের চাপ ভালো ফলাফল, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, চাকরির অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ— এগুলি তরুণদের মনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বারবার ব্যর্থতা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। ২. সম্পর্কের সমস্যা বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ, পারিবারিক অশান্তি বা একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ৩. সামাজিক তুলনা সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের সাফল্য, জীবনযাপন বা জনপ্রিয়তা দেখে অনেক তরুণ নিজের জীবনকে কম মূল্যবান ভাবতে শুরু করেন। ৪. আত্মসম্মানবোধ কমে যাওয়া নিজেকে ব্যর্থ, অযোগ্য বা অপ্রয়োজনীয় মনে করা বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অতিরিক্ত কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগ একজন মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিতে পারে। ৬. ঘুমের সমস্যা ও অনিয়মিত জীবনযাপন অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, অনিয়মিত খাবার বা শারীরিক কার্যকলাপের অভাব মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিষণ্নতার সাধারণ লক্ষণ নিচের লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে গুরুত্ব দেওয়া দরকার— সব মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষণ একরকম নাও হতে পারে। বিষণ্নতার প্রভাব চিকিৎসা বা সহায়তা ছাড়া দীর্ঘদিন বিষণ্নতা চলতে থাকলে— তাই মানসিক কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিষণ্নতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার উপায় মানসিক কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার পথ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ সহায়ক উপায় দেওয়া হলো— ১. নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কাউকে নিজের কথা বলতে চেষ্টা করুন। সবকিছু একা বহন করার প্রয়োজন নেই। ২. নিয়মিত ঘুম প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৩. শরীরচর্চা করুন হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মনের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৪. সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে না রেখে পরিচিত মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। ৫. ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে না গিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করুন। ৬. সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনুন অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। ৭. স্বাস্থ্যকর খাবার খান সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত জল এবং নিয়মিত খাবার শরীর ও মন উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮. নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হবেন না জীবনে ব্যর্থতা বা কঠিন সময় আসতেই পারে। নিজেকে সবসময় অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া সহায়ক হতে পারে। ৯. পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখুন বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, ভ্রমণ, বাগান করা— যেটি ভালো লাগে তার জন্য সময় রাখুন। ১০. প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন যদি বিষণ্নতা দীর্ঘদিন থাকে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয় বা কষ্ট খুব তীব্র হয়, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের ভূমিকা অনেক সময় একজন মানুষের পাশে থাকা, মন দিয়ে কথা শোনা এবং বিচার না করে সমর্থন দেওয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কাউকে “এগুলো ভাবো না”, “শক্ত হও”, “সব ঠিক হয়ে যাবে”— শুধু এই ধরনের কথা বলার পরিবর্তে ধৈর্য নিয়ে শোনা এবং সাহায্য করতে আগ্রহী হওয়া উপকারী হতে পারে। আশার কথা বিষণ্নতা অনেক মানুষের জীবনেই আসতে পারে। সাহায্য নেওয়া দুর্বলতা নয়; বরং নিজের সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সময়, সমর্থন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক মানুষ ধীরে ধীরে ভালো বোধ করতে পারেন। উপসংহার তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সমাজ, পরিবার এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা একত্রে কাজ করলে বিষণ্নতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়তে পারে এবং আরও মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। জীবনে কঠিন সময় আসতেই পারে, কিন্তু কঠিন সময় চিরস্থায়ী নয়। নিজের যত্ন নেওয়া, সাহায্য চাওয়া এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা— এগুলিই সুস্থ হয়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি কোনো তরুণ দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক কষ্টে থাকেন বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পরিবারের সদস্য, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Read More

বর্তমান স্বাস্থ্য ও জীবনধারার পরিস্থিতি: সচেতনতা বাড়ছে নাকি জীবন আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে?

বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য এবং জীবনধারা মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির উন্নতি, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং ডিজিটাল নির্ভরতার কারণে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতা, ফিটনেস এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে। ফলে বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এখন শুধুমাত্র চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি জীবনধারা, মানসিক অবস্থা এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো “সেডেন্টারি লাইফস্টাইল” বা দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস। অফিসের কাজ, অনলাইন পড়াশোনা এবং অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো সমস্যার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই ধরনের রোগ এখন আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দ্রুত জীবনযাত্রার কারণে অনেক মানুষ এখন ঘরোয়া খাবারের বদলে ফাস্ট ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর নির্ভর করছেন। অতিরিক্ত চিনি, তেল এবং রাসায়নিক উপাদানযুক্ত খাবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষ এখন স্বাদের দিকে বেশি ঝুঁকছে, কিন্তু সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ফিটনেস এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জিম, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং ডায়েট প্ল্যান এখন বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সংক্রান্ত কনটেন্ট জনপ্রিয় হওয়ায় তরুণদের মধ্যে শরীরচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সচেতনতা বাস্তব স্বাস্থ্য উন্নয়নের পরিবর্তে “পারফেক্ট বডি” দেখানোর প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ, সামাজিক প্রতিযোগিতা, সম্পর্কের জটিলতা এবং ডিজিটাল নির্ভরতা বহু মানুষকে উদ্বেগ, হতাশা এবং নিঃসঙ্গতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ আগের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সমস্যার প্রকৃত সমাধান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর আত্মমূল্যবোধ মানসিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। ঘুমের সমস্যাও বর্তমান জীবনধারার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। রাত জাগা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং অনিয়মিত রুটিন মানুষের ঘুমের গুণমান নষ্ট করছে। চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত এবং নিয়মিত ঘুমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্থিতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। অনলাইন চিকিৎসা, ফিটনেস অ্যাপ, স্মার্টওয়াচ এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত স্বাস্থ্য তথ্য এবং ইন্টারনেট-নির্ভর স্ব-চিকিৎসা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করছে। পরিবেশগত কারণও মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। বায়ুদূষণ, জলদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দূষণের মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান স্বাস্থ্য ও জীবনধারার পরিস্থিতি এক দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে মানুষ আগের তুলনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে বেশি সচেতন হচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ নতুন স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। এখন প্রশ্ন হলো—মানুষ কি প্রযুক্তি এবং ব্যস্ততার মধ্যেও স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন বজায় রাখতে পারবে, নাকি ভবিষ্যতে জীবনধারাজনিত রোগ আরও বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হবে? বর্তমান বাস্তবতা বলছে, সুস্থ থাকার জন্য শুধু চিকিৎসা নয়, বরং নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, মানসিক শান্তি এবং নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল জীবনধারাই আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হয়ে উঠবে।

Read More

১০০ বছর বয়সী ডেভিড অ্যাটেনবরোর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ৪ রহস্য

৮ মে ১০০ বছরে পা দিয়েছেন প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের কিংবদন্তিতুল্য সম্প্রচারক ডেভিড অ্যাটেনবরো। তাঁর এই দীর্ঘায়ু ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার রহস্য কী? তিনি নিজে অবশ্য বিনয় করে বলেন, এটা স্রেফ ভাগ্য। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন অন্য কথা। তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শতায়ু হওয়ার রহস্য। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম দারুণ এক উপহার দিয়েছে স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোকে। তাঁর শততম জন্মদিন উপলক্ষে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির এক বোলতার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। নতুন এ প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ‘অ্যাটেনবরোনকুলাস টাউ’। ‘প্ল্যানেট আর্থ, লাইফ অন আর্থ’ বা ‘দ্য প্রাইভেট লাইফ অব প্ল্যান্টস’-এর মতো ডকু সিরিজের মাধ্যমে তিনি আমাদের প্রকৃতির যে বিস্ময় ও সৌন্দর্য দেখিয়েছেন, এটি তারই একটি ছোট্ট স্বীকৃতি। প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের এই কিংবদন্তিতুল্য সম্প্রচারক ৮ মে ১০০ বছরে পা দিয়েছেন। এই বয়সেও দিব্যি কাজ করে যাচ্ছেন। গত বছর ৯৯ বছর বয়সেও নেটফ্লিক্সের ‘সিক্রেট লাইভস অব ওরাংওটাং’ ডকুমেন্টারির জন্য সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ডেটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি দিন বাঁচে, সেসব অঞ্চলকে বলে ‘ব্লু জোন’। মজার ব্যাপার, অ্যাটেনবরোর জীবনযাপনের সঙ্গে ওই ব্লু জোনের মানুষদের দারুণ মিল আছে। চলুন, জেনে নিই তাঁর সেই চমৎকার চারটি অভ্যাসের কথা, যা তাঁর শতায়ুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ১. রেড মিটকে ‘না’ ডেভিড অ্যাটেনবরো পুরোপুরি নিরামিষভোজী নন, তবে তাঁর খাদ্যতালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। ২০২০ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি মাসের পর মাস কোনো রেড মিট খাইনি।’ অ্যাটেবরো মূলত ‘ফ্লেক্সিটারিয়ান ডায়েট’ মেনে চলেন। মানে ডিম, দুগ্ধজাত খাবার বা সামুদ্রিক মাছ পুরোপুরি ছাড়েননি, কিন্তু আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরামিষ খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মাছ খাওয়ার এই অভ্যাস তাঁর দীর্ঘায়ু ও বৃদ্ধ বয়সে ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্যামন, ম্যাকেরেল, টুনা বা সার্ডিনের মতো মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এসব দারুণ সাহায্য করে। আরও পড়ুন সব সময় সুস্থ থাকতে সহজ এই ৫টি অভ্যাস চর্চা করুন ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ২. প্রকৃতির সঙ্গে ১০ মিনিট কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে মাত্র ১০ মিনিট সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায় এবং মন বেশ ফুরফুরে থাকেছবি: এএফপি আপনি যদি পার্ক, বন বা কোনো সবুজ জায়গায় থাকেন, তবে প্রকৃতির জাদু দেখতে খুব বেশি সময় লাগে না। অ্যাটেনবরো ‘কল অব দ্য ওয়াইল্ড’ নামে একটি পডকাস্টে দারুণ একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলেই একটা খুব সাধারণ কাজ করবেন। কোথাও চুপচাপ বসে পড়ুন, একদম নড়াচড়া করবেন না এবং ১০টা মিনিট অপেক্ষা করুন। আমি নিশ্চিত, খুব দারুণ কিছু আপনার চোখে পড়বে।’ বিজ্ঞানও তাঁর এ কথার সঙ্গে একমত। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে মাত্র ১০ মিনিট সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায় এবং মন বেশ ফুরফুরে থাকে। জাপানিদের ‘ফরেস্ট বাথিং’ ধারণাও ঠিক এমনই। বনের ভেতর দিয়ে চুপচাপ হাঁটা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করাই ফরেস্ট বাথিং। সঙ্গে কিন্তু কোনো ফোন বা গ্যাজেট থাকা চলবে না! ৩. জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ১৯৫২ সালে বিবিসির হয়ে কাজ শুরু করেছিলেন অ্যাটেনবরো। সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অবসরে যাননি। নিজের কাজকে অসম্ভব ভালোবাসেন। ২০১৭ সালে ‘টাইমস’ পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘প্রকৃতি নিয়ে কেউ কখনো ক্লান্ত হতে পারে না। পা গুটিয়ে বসে থাকাটা তো খুব বোরিং, তাই না? আপনি কি বেলুনে চড়ে আল্পস পর্বতের ওপর দিয়ে উড়তে চাইবেন, নাকি বাড়িতে বসে ঝিমাবেন?’ অন্যান্য শতায়ু ব্যক্তিরাও ঠিক এমনটাই মনে করেন। যেমন ২০২৫ সালে ১০৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক চিকিৎসক হাওয়ার্ড টাকার বলেছিলেন, ‘অবসর হলো দীর্ঘায়ুর সবচেয়ে বড় শত্রু।’ জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের বাসিন্দাদের অভিধানে অবসর বলে কোনো শব্দ নেই। এই জায়গাও ব্লু জোনের একটি অংশ। অবসরের বদলে তাঁরা ‘ইকিগাই’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এই শব্দের মানে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি কারণ বা তাগিদ। ২০১৯ সালে ‘জামা’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনে একটি শক্তিশালী লক্ষ্য থাকলে তা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে। সমাজসেবা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ জীবনের এই লক্ষ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। অ্যাটেনবরোর কাজের প্রতি এই ভালোবাসাই হয়তো তাঁকে এত দিন সুস্থ রেখেছে।

Read More

অনুজ্জ্বল ত্বক? বিদেশি কসমেটিক্স নয়, হাল ফিরবে এই ৫ শরবতে! জানুন কীভাবে বানাবেন

নামীদামি ক্রিম কখনওই ফেরাতে পারে না ত্বকের উজ্জ্বলতা, যদি না শরীর ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবান হয়। প্রত্যেকদিনের রুটিনের মধ্যে স্কিনকেয়ার রাখতে পারলে অতি উত্তম (Skin Care Tips)। তবে তার চাইতেও বেশি জরুরি, শরীরের আভ্যন্তরীণ সুস্থতায় নজর দেওয়া। দেহের আর্দ্রতা বজায় থাকছে কিনা, রোজকার খাবার থেকে সঠিক পুষ্টিগুণ মিলছে কিনা, খাবার হজম হচ্ছে কিনা — তার সবটাই প্রতিফলিত হয় ত্বকে। চামড়ার উপরের দাগ-ছোপের বেশিরভাগটাই আসলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফল। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে তিনবেলাই পুষ্টিকর কিছু খাওয়া সম্ভব কি? আজ রইল এমন পাঁচটি শরবতের হদিশ, যা পান করলে শরীরের আভ্যন্তরীণ সুস্থতা অক্ষুণ্ণ থাকে। ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল।

Read More