ভাঙড়ে শওকতের বিরুদ্ধে প্রার্থী আরাবুল? ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে জল্পনা
প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড় আসন্ন বিধানসভা ভোটে (Assembly Elections) ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকত মোল্লার (Shaukat Molla) বিরুদ্ধে কি প্রার্থী হতে চলেছেন ভাঙড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম? এমনই একটি খবর ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োতে (এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিতে পারেন আরাবুল। আইএসএফের (ISF) টিকিটেই তিনি ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে শওকতের বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আরাবুল কিংবা শওকত, কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। এক সময়ের ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম বর্তমানে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কৃত। এই মুহূর্তে তিনি কার্যত গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আরাবুলের ছেলে হাকিমুল ইসলাম জেলা পরিষদের সদস্য হলেও তৃণমূল নেতা হিসাবে কোনও মিটিং মিছিলে ডাক পান না। ভাঙড়ের আর এক তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদও দলে কোণঠাসা। আরাবুলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে আইএসএফের হয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে। এ ব্যাপারে রাজি করাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরাও চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ভাঙড়ে গোপন বৈঠকও হয়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠরাই সেই খবর ফাঁস করে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। আরাবুল ঘনিষ্ঠ ভাঙড়ের এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার কথায়, ‘রাজনীতির সাপ লুডোর খেলায় বিভিন্ন সময় দলে কোণঠাসা হলেও দাদাকে কখনও দল থেকে পুরোপুরি নির্বাসন দেওয়া হয়নি। এ বার সেটাই করেছে দল। এর পিছনে শওকতের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে ক্যানিং পূর্বে দাদাকে প্রার্থী করতে চাইছি আমরা। দাদা একবার রাজি হলেই খেলা জমে যাবে।’ আরাবুল ও হাকিমুল ভাঙড় বিধানসভার বেওতা ১ ও ২ এবং বামনঘাটা অঞ্চল থেকে গত পঞ্চায়েত ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরাবুল শিবিরের দাবি, সেই এলাকার একটা বিপুল সংখ্যক কর্মী–সমর্থক আরাবুলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। আরাবুল যে পথে এগোবেন, তাঁরাও সেদিকেই যাবেন।’ এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আরাবুলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে চিঠি দিয়েছি। ভোট সৈনিক হিসাবে লড়াই করার জন্য একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু দল সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। কী করব, তা এখনও ঠিক করিনি।’ এ ব্যাপারে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা আরাবুলের নাম না করে একটি সভায় বলেন, ‘গদ্দারগুলোকে দল থেকে তাড়িয়েছি, এখন বাজার গরম করছে। যদি বাপের বেটা হয়ে থাকেন, যদি বুকের পাটা থাকে, তা হলে আইএসএফের টিকিট নিয়ে ভাঙড় থেকে দাঁড়াক।’ ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা তথা জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, ‘আরাবুলদা যদি আইএসএফ–এ আসত চান, তবে তাঁকে স্বাগত জানাব। কিন্তু তিনি যোগদান করতে পারবেন কি না, সেটা দল ঠিক করবে।’ আইএসএফের চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘উনি আইএসএফে যোগদান করতে চাইলে ওঁকে দলে নেওয়া হবে কি না, সেটা ঠিক করবেন আমার বড় ভাই। কারণ, উনি দলের প্রতিষ্ঠাতা।’ অর্থাৎ, নওশাদ বল ঠেলে দিয়েছেন তাঁর দাদার কোর্টে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন আরাবুল।

