mydomen01@gmail.com

জ্যোতিষশাস্ত্র: বিশ্বাসের বিজ্ঞান নাকি অন্ধ নির্ভরতার নতুন রূপ?

মানুষের ভবিষ্যৎ জানার আকাঙ্ক্ষা বহু পুরোনো। সেই চাহিদাকেই কেন্দ্র করে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে Astrology বা জ্যোতিষশাস্ত্র। প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই বিষয়টির জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জ্যোতিষচর্চা আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে প্রবেশ করছে। প্রশ্ন উঠছে—জ্যোতিষশাস্ত্র কি সত্যিই ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণের কার্যকর পদ্ধতি, নাকি এটি মানুষের অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুর্বলতার উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশ্বাসভিত্তিক ব্যবস্থা? বর্তমানে বহু মানুষ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাশিফল, গ্রহের অবস্থান কিংবা জন্মকুণ্ডলীর পরামর্শ নিচ্ছেন। চাকরি, বিয়ে, ব্যবসা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত—সব ক্ষেত্রেই জ্যোতিষের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ জানার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জ্যোতিষশাস্ত্র মূলত মানুষের মানসিক সান্ত্বনার উৎস হিসেবে কাজ করে। যখন বাস্তব পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, তখন মানুষ এমন কিছুতে বিশ্বাস করতে চায় যা তাকে আশার অনুভূতি দেয়। এই মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরতার কারণেই বহু মানুষ নিয়মিত রাশিফল অনুসরণ করেন বা জ্যোতিষীর পরামর্শ নেন। তবে সমালোচকদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় এখনো পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা দেখায় যে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান সরাসরি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অধিকাংশ জ্যোতিষীয় ভবিষ্যদ্বাণী এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা প্রায় সবার জীবনেই কোনো না কোনোভাবে মিলে যায়। এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানে “বার্নাম ইফেক্ট” বলা হয়, যেখানে সাধারণ এবং অস্পষ্ট বক্তব্য মানুষ নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। ডিজিটাল যুগে জ্যোতিষশাস্ত্র এখন বড় ব্যবসায়ও পরিণত হয়েছে। অনলাইন রাশিফল, পেইড কনসালটেশন, লাইভ ভবিষ্যদ্বাণী এবং জ্যোতিষ অ্যাপের বাজার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার এই শিল্পে প্রতিদিন নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম যোগ হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, মানুষের দুর্বলতা এবং অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করেই এই ব্যবসা আরও বড় হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্রের সম্পর্ক বহু পুরোনো। বহু পরিবার এখনও শুভ সময় দেখে বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা ব্যবসা শুরু করে। ফলে জ্যোতিষকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করাও অনেকের কাছে সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক গবেষক মনে করেন, জ্যোতিষকে কেবল কুসংস্কার হিসেবে দেখলে বিষয়টির সামাজিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয় তখন, যখন মানুষ বাস্তব সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে জ্যোতিষ নির্ভর হয়ে পড়ে। চিকিৎসা, আর্থিক বিনিয়োগ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভবিষ্যদ্বাণীর উপর নির্ভরতা অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে জ্যোতিষশাস্ত্র আজও সমাজে গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। একদল মানুষ এটিকে বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন এক প্রথা বলে মনে করেন। কিন্তু বিতর্ক যাই থাকুক, বাস্তবতা হলো—মানুষের ভবিষ্যৎ জানার আগ্রহ যতদিন থাকবে, ততদিন জ্যোতিষশাস্ত্রের জনপ্রিয়তাও সহজে কমবে না।

Read More

চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা: আশার আলো নাকি বাড়ছে সংকট?

দেশের চাকরির বাজার বর্তমানে এক জটিল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যবসা এবং স্টার্টআপ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দক্ষতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চাকরি সংক্রান্ত খবরগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে শুধুমাত্র ডিগ্রি নয়, বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলেও প্রতিযোগিতার মাত্রা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। একটি পদের জন্য লাখ লাখ আবেদন জমা পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা এবং বেসরকারি খাতে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যয় কমানোর নীতি এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বহু কোম্পানিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও পরিস্থিতি মিশ্র। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে, আবার একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। ফলে সাধারণ ডিগ্রিধারীদের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠলেও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে “স্কিল আপগ্রেডেশন” বা নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন। অন্যদিকে, স্টার্টআপ এবং গিগ ইকোনমি নতুন প্রজন্মের কাছে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অনলাইন ব্যবসার মতো ক্ষেত্রগুলোতে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই ধরনের কাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আয়ের স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার অভাব। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে স্থায়ী চাকরি এবং স্বাধীন পেশার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রামাঞ্চল এবং ছোট শহরগুলোর পরিস্থিতি আরও কঠিন। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ এখনও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। ফলে অনেকেই বড় শহরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শহরাঞ্চলে প্রতিযোগিতা এবং জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চাকরির পরীক্ষাগুলোতেও বাড়ছে চাপ এবং বিতর্ক। প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা বহু প্রার্থীর মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফল প্রকাশ না হওয়া কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় অনেক তরুণ মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা না আনলে ভবিষ্যতে এই অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান চাকরির বাজার একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে তেমনি অনিশ্চয়তা এবং প্রতিযোগিতাকেও বাড়িয়ে তুলছে। এখন প্রশ্ন হলো—দেশের তরুণ সমাজ কি দ্রুত বদলে যাওয়া এই কর্মসংস্থানের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে, নাকি দক্ষতার অভাব এবং সীমিত সুযোগের কারণে সংকট আরও গভীর হবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের চাকরির লড়াই শুধু ডিগ্রির নয়, বরং দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে।

Read More

আইপিএল ২০২৬: ক্রিকেট নাকি বিনোদনের সাম্রাজ্য?

স্টেডিয়ামের গর্জন, ফ্লাডলাইটের ঝলকানি এবং আধুনিক ক্রিকেটের অসহনীয় চাপ—সব মিলিয়ে এবারের Indian Premier League আবারও প্রমাণ করেছে কেন এটি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। একটি ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে শুরু হয়ে আজ আইপিএল পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক ক্রীড়া ও বিনোদন শিল্পের এক বিশাল শক্তিতে, যেখানে ক্রিকেট এখন শুধুমাত্র খেলা নয়, বরং ব্যবসা, ব্র্যান্ড এবং আবেগের সমন্বয়। এই মরসুমে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ব্যাটিংয়ের ধরণে। একসময় যে রানকে নিরাপদ স্কোর ধরা হত, এখন সেই রান অনায়াসে তাড়া করে জিতে যাচ্ছে দলগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেটের ভারসাম্য এখন অনেকটাই ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বোলাররা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই চরম চাপের মধ্যে পড়ছেন, বিশেষ করে শেষ ওভারগুলোতে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কি ধীরে ধীরে শুধুই ব্যাটসম্যানদের খেলায় পরিণত হচ্ছে? Mumbai Indians এবং Royal Challengers Bengaluru-এর মতো জনপ্রিয় দলগুলো এই মৌসুমে প্রবল চাপে রয়েছে। তারকায় ভরা দল থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকতার অভাব, মাঝের ওভারে ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং ডেথ ওভারে দুর্বল বোলিং তাদের সমস্যাকে আরও স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত কিছু দল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের ওপর ভর করে চমক দেখিয়েছে। এই আইপিএল আবারও তুলে ধরেছে ভারতের তরুণ ক্রিকেট প্রতিভার বিস্ফোরণ। বহু অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক তারকাদের বিরুদ্ধে নির্ভীক পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গঠনে আইপিএলের ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই জৌলুসের আড়ালে রয়েছে ক্লান্তিকর বাস্তবতা। ঘন ঘন ম্যাচ, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং ক্রমাগত মানসিক চাপ খেলোয়াড়দের উপর বিশাল প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের জন্য এই সূচি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ জাতীয় দায়িত্ব শেষ করেই খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যোগ দিতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আইপিএলের শক্তি আরও বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং ডিজিটাল স্ট্রিমিং মিলিয়ে এটি এখন বহু বিলিয়ন ডলারের শিল্প। তবে সমালোচকদের মতে, এই বিপুল আর্থিক প্রভাব বিশ্ব ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। ছোট ক্রিকেট বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, আর টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেট ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারানোর আশঙ্কায় পড়ছে। মাঠের বাইরেও আইপিএল এখন এক সাংস্কৃতিক উৎসব। দর্শকদের উন্মাদনা, সংগীত, সেলিব্রিটি উপস্থিতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণা টুর্নামেন্টটিকে শুধুমাত্র ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। এটি এখন এক বিশাল বিনোদন ব্র্যান্ড। সবশেষে প্রশ্ন একটাই—আইপিএল কি ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করছে, নাকি ধীরে ধীরে খেলাটিকে শুধুই বাণিজ্যিক বিনোদনে পরিণত করছে? সমর্থকদের মতে, আইপিএল ক্রিকেটকে আধুনিক করেছে এবং খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতা বলছে, আইপিএলের অগ্রযাত্রা থামার কোনো লক্ষণ নেই। দর্শকসংখ্যা বাড়ছে, ডিজিটাল জনপ্রিয়তা নতুন রেকর্ড গড়ছে, আর প্রতিটি মরসুমে এই টুর্নামেন্ট আরও বড় হয়ে উঠছে। ক্রিকেটের ইতিহাসে আইপিএল এখন আর শুধু একটি লিগ নয়—এটি আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বের এক নতুন শক্তির নাম।

Read More

১০০ বছর বয়সী ডেভিড অ্যাটেনবরোর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের ৪ রহস্য

৮ মে ১০০ বছরে পা দিয়েছেন প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের কিংবদন্তিতুল্য সম্প্রচারক ডেভিড অ্যাটেনবরো। তাঁর এই দীর্ঘায়ু ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার রহস্য কী? তিনি নিজে অবশ্য বিনয় করে বলেন, এটা স্রেফ ভাগ্য। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন অন্য কথা। তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শতায়ু হওয়ার রহস্য। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম দারুণ এক উপহার দিয়েছে স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোকে। তাঁর শততম জন্মদিন উপলক্ষে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির এক বোলতার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। নতুন এ প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ‘অ্যাটেনবরোনকুলাস টাউ’। ‘প্ল্যানেট আর্থ, লাইফ অন আর্থ’ বা ‘দ্য প্রাইভেট লাইফ অব প্ল্যান্টস’-এর মতো ডকু সিরিজের মাধ্যমে তিনি আমাদের প্রকৃতির যে বিস্ময় ও সৌন্দর্য দেখিয়েছেন, এটি তারই একটি ছোট্ট স্বীকৃতি। প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের এই কিংবদন্তিতুল্য সম্প্রচারক ৮ মে ১০০ বছরে পা দিয়েছেন। এই বয়সেও দিব্যি কাজ করে যাচ্ছেন। গত বছর ৯৯ বছর বয়সেও নেটফ্লিক্সের ‘সিক্রেট লাইভস অব ওরাংওটাং’ ডকুমেন্টারির জন্য সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ডেটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি দিন বাঁচে, সেসব অঞ্চলকে বলে ‘ব্লু জোন’। মজার ব্যাপার, অ্যাটেনবরোর জীবনযাপনের সঙ্গে ওই ব্লু জোনের মানুষদের দারুণ মিল আছে। চলুন, জেনে নিই তাঁর সেই চমৎকার চারটি অভ্যাসের কথা, যা তাঁর শতায়ুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ১. রেড মিটকে ‘না’ ডেভিড অ্যাটেনবরো পুরোপুরি নিরামিষভোজী নন, তবে তাঁর খাদ্যতালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। ২০২০ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি মাসের পর মাস কোনো রেড মিট খাইনি।’ অ্যাটেবরো মূলত ‘ফ্লেক্সিটারিয়ান ডায়েট’ মেনে চলেন। মানে ডিম, দুগ্ধজাত খাবার বা সামুদ্রিক মাছ পুরোপুরি ছাড়েননি, কিন্তু আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরামিষ খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মাছ খাওয়ার এই অভ্যাস তাঁর দীর্ঘায়ু ও বৃদ্ধ বয়সে ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্যামন, ম্যাকেরেল, টুনা বা সার্ডিনের মতো মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এসব দারুণ সাহায্য করে। আরও পড়ুন সব সময় সুস্থ থাকতে সহজ এই ৫টি অভ্যাস চর্চা করুন ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ২. প্রকৃতির সঙ্গে ১০ মিনিট কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে মাত্র ১০ মিনিট সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায় এবং মন বেশ ফুরফুরে থাকেছবি: এএফপি আপনি যদি পার্ক, বন বা কোনো সবুজ জায়গায় থাকেন, তবে প্রকৃতির জাদু দেখতে খুব বেশি সময় লাগে না। অ্যাটেনবরো ‘কল অব দ্য ওয়াইল্ড’ নামে একটি পডকাস্টে দারুণ একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলেই একটা খুব সাধারণ কাজ করবেন। কোথাও চুপচাপ বসে পড়ুন, একদম নড়াচড়া করবেন না এবং ১০টা মিনিট অপেক্ষা করুন। আমি নিশ্চিত, খুব দারুণ কিছু আপনার চোখে পড়বে।’ বিজ্ঞানও তাঁর এ কথার সঙ্গে একমত। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে মাত্র ১০ মিনিট সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে যায় এবং মন বেশ ফুরফুরে থাকে। জাপানিদের ‘ফরেস্ট বাথিং’ ধারণাও ঠিক এমনই। বনের ভেতর দিয়ে চুপচাপ হাঁটা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করাই ফরেস্ট বাথিং। সঙ্গে কিন্তু কোনো ফোন বা গ্যাজেট থাকা চলবে না! ৩. জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ১৯৫২ সালে বিবিসির হয়ে কাজ শুরু করেছিলেন অ্যাটেনবরো। সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অবসরে যাননি। নিজের কাজকে অসম্ভব ভালোবাসেন। ২০১৭ সালে ‘টাইমস’ পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘প্রকৃতি নিয়ে কেউ কখনো ক্লান্ত হতে পারে না। পা গুটিয়ে বসে থাকাটা তো খুব বোরিং, তাই না? আপনি কি বেলুনে চড়ে আল্পস পর্বতের ওপর দিয়ে উড়তে চাইবেন, নাকি বাড়িতে বসে ঝিমাবেন?’ অন্যান্য শতায়ু ব্যক্তিরাও ঠিক এমনটাই মনে করেন। যেমন ২০২৫ সালে ১০৩ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক চিকিৎসক হাওয়ার্ড টাকার বলেছিলেন, ‘অবসর হলো দীর্ঘায়ুর সবচেয়ে বড় শত্রু।’ জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের বাসিন্দাদের অভিধানে অবসর বলে কোনো শব্দ নেই। এই জায়গাও ব্লু জোনের একটি অংশ। অবসরের বদলে তাঁরা ‘ইকিগাই’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এই শব্দের মানে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি কারণ বা তাগিদ। ২০১৯ সালে ‘জামা’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনে একটি শক্তিশালী লক্ষ্য থাকলে তা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে। সমাজসেবা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ জীবনের এই লক্ষ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। অ্যাটেনবরোর কাজের প্রতি এই ভালোবাসাই হয়তো তাঁকে এত দিন সুস্থ রেখেছে।

Read More